অস্পষ্ট বা রূপক শব্দে তালাকের বিধান এবং "ধরো দিলাম" সংক্রান্ত মাসআলা
প্রশ্নঃ ১৬৮৩২২. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, স্বামী স্ত্রীর ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্ত্রী বললো যে কি তাহলে তালাক দিয়ে দিবেন?? স্বামী বললো: ধরো দিলাম স্ত্রী বললো: কি? তালাক দিবেন? স্বামী বললো ধরো দিলাম। এভাবে দুইবার বললে কি তালাক পতিত হবে? আর তালাক পতিত হলেও কত তালাক পতিত হবে? দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
স্ত্রী যদি স্বামীকে বলে' আপনি কি তালাক দিয়ে দিবেন? এর প্রেক্ষিতে স্বামী যদি বলে "ধরো দিলাম" এর হুকুম হল-
"ধরো দিলাম" এটি মূলত স্পষ্ট তালাকের কোনো শব্দ নয়। বরং তালাক পতিত হওয়ার জন্য এটি রূপক বা ইঙ্গিত মূলক শব্দ। তদুপরি এখানে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় কোন বিষয় "ধরে নেয়া যাক বা মেনে নেয়া যাক" এর অর্থ প্রকাশক।
ফিকহের ভাষায় এটি 'কিনায়া' (অস্পষ্ট, রূপক বা ইঙ্গিত মূলক) শব্দ। আর এরূপ শব্দের ক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়তের নিয়ম হলো- স্বামীর নিয়ত (উদ্দেশ্য) দেখা হবে। এক্ষেত্রে হয়তো
(ক) স্বামীর কোন নিয়ত থাকবে না: অর্থাৎ স্বামী যদি স্ত্রীর প্রশ্নের জবাবে বিষয়টি এড়ানোর জন্য, রাগ কমানোর জন্য কিংবা কথার কথা হিসেবে "ধরো দিলাম" বলে থাকে এবং তালাক কার্যকর করার কোনো নিয়ত না থাকে, তবে তালাক পতিত হবে না।
(খ) আর যদি তালাকের নিয়ত থাকে : অর্থাৎ স্বামী যদি সত্যিই মনে মনে তালাক দেওয়ার চূড়ান্ত নিয়ত করে "ধরো দিলাম" বলে থাকে, তবে তালাক পতিত হবে।
নিয়ত থাকলে কয় তালাক হবে?:
যদি স্বামী স্বীকার করে যে তার মনে তালাক দেওয়ার নিয়ত ছিল, তবে "ধরো দিলাম" কথাটি কিনায়া অর্থাৎ ইঙ্গিত মূলক হওয়ার কারণে এর দ্বারা ১টি তালাকে বায়েন বা বিচ্ছেদকারী তালাক পতিত হবে।
এর ফলে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক তাৎক্ষণিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। তবে স্ত্রী যদি সম্মত থাকে তাহলে নতুন করে মোহরানা ধার্য করে নতুন আকদ (নিকাহ)-এর মাধ্যমে তারা পুনরায় সংসার শুরু করতে পারবে।
আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়াতে বলা হয়েছে:
(١) الكنايات لا يقع بها الطلاق إلا بالنية أو بدلالة الحال
(ফাতাওয়া আলমগীরী: ১/৩৭৪)
আদ্দুররুল মুখতার-এ উল্লেখ আছে:
(٢)2 (والمعنى) ينكشف (بنيته) أو دلالة الحال... (وما يحتمل غيره) أصلًا... (فكناية)... (ولا يقع بها إلا البائن)
(আদ্দুররুল মুখতার ও রদ্দুল মুহতার: ৩/২৯৬-৩০০)
আল-বাহরুর রায়েক গ্রন্থে বলা হয়েছে-
(٣) "ولَوْ قَالَ: افْرِضِي، أَوْ قَدِّرِي، أَوْ خُمِّنِي، أَوْ حِسَابَكِ؛ لَا يَقَعُ الطَّلَاقُ إلَّا بِالنِّيَّةِ؛ لِأَنَّهَا كِنَايَاتٌ حَقِيقَةً تَمْتَنِعُ عَنْ إفَادَةِ الطَّلَاقِ بِدُونِهَا."
আল-বাহরুর রায়েক (৮/৫৪৯ )
মোটকথা- স্বামী যদি তালাক দেওয়ার নিয়তে "ধরো দিলাম" বলে থাকে তাহলে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কে এক তালাকে বাইন" পতিত হবে। এবং এর মাধ্যমে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক তৎক্ষণিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। স্বামী-স্ত্রী উভয়ে রাজি থাকলে পরবর্তীতে বিবাহ নবায়নের মাধ্যমে তারা সংসার করতে পারবে।
আর যদি স্বামীর তালাকের নিয়ত না থাকে তাহলে
তালাক সংঘটিত হবে না।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শিক্ষা সচিব- শাইখ আবু সাঈদ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, মোহাম্মাদপুর।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন